Current Bangladesh Time
মঙ্গলবার সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ ৯:২৪ অপরাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » জাতীয় » ভারতেও ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে ফেলার জোর দাবি 
শুক্রবার মে ১৭, ২০১৯ , ১০:৫২ অপরাহ্ণ
Print this E-mail this

ভারতেও ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে ফেলার জোর দাবি


অগ্রযাত্রা ডেস্কঃ

মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী তেতাল্লিশ বছর আগে আজকের এই দিনে ভারতে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে লং মার্চে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

তখন থেকেই বাংলাদেশে এই দিনটি ‘ফারাক্কা লং মার্চ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে, যদিও বিগত পাঁচ দশকে ফারাক্কা নিয়ে ভারতের অনড় অবস্থানে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।

তবে সম্প্রতি ভারতেও ফারাক্কার বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হচ্ছে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ফারাক্কা ব্যারাজ ভেঙে ফেলারও প্রস্তাব করেছেন।

ফারাক্কা বাঁধের ব্যাপারে অ্যাক্টিভিস্ট ও বিশেষজ্ঞ মেধা পাটকের বলছেন, ভারতেও ফারাক্কা এখন সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি ঘটাচ্ছে – কাজেই এটি অবিলম্বে ‘ডিকমিশন’ করা দরকার। বস্তুত সাতের দশকের মাঝামাঝি ভারত যখন গঙ্গার বুকে ফারাক্কা ব্যারাজ চালু করেছিল, তারপর থেকে বিতর্ক কখনওই এই প্রকল্পটির পিছু ছাড়েনি।

সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যেমন এই ব্যারাজের মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়েছে – তেমনি ভারতেও দেখা যাচ্ছে ফারাক্কা নানা ধরনের বিপদ ডেকে এনেছে। বিহারের গাঙ্গেয় অববাহিকায় প্রতি বছরের ভয়াবহ বন্যার জন্য ফারাক্কাকেই দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার তো এই বাঁধটাই তুলে দিতে বলেছিলেন।

ভারতের অ্যাক্টিভিস্ট ও নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের নেত্রী মেধা পাটকর বলছিলেন, একটা বাঁধের প্রভাব যদি খুব ধ্বংসাত্মক হয়, ফারাক্কাতে যেটা হয়েছে, তাহলে সেটা ডিকমিশন করার অসংখ্য নজির কিন্তু দুনিয়াতে আছে।

নীতিশ কুমার ফারাক্কা ভাঙার প্রস্তাব দিলেও সে ব্যাপারে বিশেষ কিছু করেননি, সত্যিকারের সোশ্যালিস্ট রাজনীতিতে বিশ্বাস করলে তারও এতদিনে গঙ্গার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল।

রিভার্স অ্যান্ড পিপলের কর্ণধার ও নদী-বিশেষজ্ঞ হিমাংশু ঠক্করও জানায়, একটা বাঁধ ডিকমিশন করার আগে কয়েকটা জিনিস খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয় – দেখতে হয় লাভ-ক্ষতির পাল্লাটা কোন দিকে ভারী। ফারাক্কার ক্ষেত্রে সেই স্টাডিটা এখনও শুরু করা হয়নি। কিন্তু একটা জিনিস স্পষ্ট – ফারাক্কার মূল উদ্দেশ্য যেটা ছিল সেই কলকাতা বন্দরকে কিন্তু আজও বাঁচানো যায়নি।

হিমাংশু ঠক্কর বলেন, কলকাতা বন্দর টিঁকিয়ে রাখতে আজ যে পরিমাণ ড্রেজিং করতে হয়, ফারাক্কা চালু হওয়ার আগেও ততটা করতে হত না। এটাকে একটা প্রতীক ধরলে ফারাক্কা তো ভেঙে ফেলাই উচিত।

তিনি আরও জানান, ফারাক্কায় গঙ্গার ওপর রেল ও সড়ক-সেতু এখনকার মতো রেখে দিয়েই ব্যারাজটা সরিয়ে দেওয়া সম্ভব – ইউরোপ আমেরিকাতে তা অনেক জায়গাতেই হয়েছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ সুমনা ব্যানার্জিও বলছিলেন, ফারাক্কার জন্য গঙ্গায় এত বেশি পলি জমছে যে তাতে দুপারের জমি ভাঙছে, জনপদ প্লাবিত হচ্ছে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি বলেন, প্রতি বছরই আমরা ফিল্ড ট্রিপে সেখানে যাই।

পাঁচ-ছয় বছর আগে যখন মালদার পঞ্চানন্দপুরের ভাঙন খতিয়ে দেখতে যাই, তখন দেখেছিলাম ফারাক্কার বুকে মাঝগঙ্গাতেও কিন্তু বক দাঁড়িয়ে আছে।

এই ছবিটাই বলে দেয় গঙ্গাতে কী পরিমাণ সিল্টেশন জমছে বা সেডিমেন্টেশন হচ্ছে। আর সেই সিল্টেশন ঠেকানোর ক্ষমতা যদি ফারাক্কার না-থাকে, তাহলে তো গোটা ব্যারাজটাই অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়, তাই না? আমরা ফারাক্কাকে এই অবস্থাতেই ফেলে রেখেছি যেখানে এত বিপুল পরিমাণ সেডিমেন্টেশন হচ্ছে যে নদীর চ্যানেলটার আর জল ধরে রাখার ক্ষমতা নেই – আর সেটা দুপারে উপছে পড়ছে।

স্থানীয় একজন গ্রামবাসী সুন্দর উপমা টেনে বলেছিলেন, সাপের মুখটা জোরে ধরে রাখলে সাপটা যেমন ছটফট করে, নদীটাও এখানে সেভাবে ছটফট করছে। আর সাপের মুখটা ধরে রাখা হচ্ছে এই ফারাক্কা ব্যারাজ!

মেধা পাটকর আরও জানান, কোনও সংশয় নেই, ভারতের জন্যও ফারাক্কা এখন যত না উপযোগী – তার চেয়ে অনেক বেশি ধ্বংস ডেকে আনছে।

পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা উর্মিলা দাস বলেন, প্রায় অর্ধশতাব্দীর পুরনো ফারাক্কা ব্যারাজ যে ভারতের আর বিশেষ কোনও কাজে আসছে না – বরং নানা ধরনের পরিবেশগত বিপদ ডেকে আনছে বিশেষজ্ঞরা অনেকেই তা খোলাখুলি বলছেন।

তবে ফারাক্কা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজনৈতিক স্তরেই, বছর তিনেক আগে নীতীশ কুমারের প্রকাশ্য দাবির পরেও সে কাজে কিন্তু খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।

Archives
Image
রাজাপুরে নারী ও শিশুর ওপর পৈচাশিক হামলা; আহত ৩
Image
মাদককারবারীদের হামলায় গুরুতর আহত যুবলীগ নেতা রিগান
Image
শরিয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির অভিযোগ
Image
লক্ষ্মীপুরে ভেজাল উপকরণ ব্যবহার করায় দুই বেকারীকে জরিমানা
Image
কুয়াকাটা বন্ধুমহল সোসাইটি’র উদ্যোগে বাঁশের সাকো নির্মাণ