Current Bangladesh Time
বৃহস্পতিবার নভেম্বর ২১, ২০১৯ ১১:১৬ অপরাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » লোহাগড়ায় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন নিয়ে আওয়ামী নেতাকর্মীদের ক্ষোভ 
রবিবার অক্টোবর ২৭, ২০১৯ , ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Print this E-mail this

লোহাগড়ায় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন নিয়ে আওয়ামী নেতাকর্মীদের ক্ষোভ


 

মোঃরাশেদুল ইসলাম,
নড়াইল জেলা প্রতিনিধি-

আসছে আগামী ২৭/১০/১৯ নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ এর ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। তবে সম্মেলনের সামগ্রিক প্রক্রিয়া অগোছালো বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্মেলনে একাধিক ত্যাগী নেতাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে অনুষ্ঠান ঘিরে মাইকিং, পোস্টারিং বা তেমন কোনো প্রচারণা না থাকায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন
লোহাগড়া উপজেলায় মান-দন্ডহীন সম্মেলন হতে যাচ্ছে। তোরণ, মঞ্চ, পান্ডেলসহ সম্মেলনের চিঠি, অতিথি তালিকা, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সাথে সমন্বয় এখনও দেখা যাচ্ছে না । ২৭ তারিখ সম্মেলনে লোহাগড়ার ঐতিহ্য নষ্ট হলে আপনাদের প্রজন্মের কাছে মূল্য কতটুকু থাকবে ভেবে দেখবেন।

এ প্রসঙ্গে ৩ নং শালনাঘর আওয়মীলীগের সভাপতি শেখ রেজাউল করিম বলেন, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের ভোটার করা হয়েছে। সম্মেলনের সাথে সংশ্লিষ্ট দায়ীত্ব রত নেতা ক্ষমতার জোরে অনেক ত্যাগী নেতা কর্মীদের বাদ দিয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা কাজ করছে।

একই অভিযোগ জানিয়ে, ৩ নং শালনাঘর আওয়মীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা উপেক্ষা করে ওয়ার্ড় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। সম্মেলনে কাদের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি করা হচ্ছে সেই ব্যাপারে কাউকে জানানো হয়নি। এমন কি গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা কর্মী কে সম্মেলনের নিমন্ত্রণ পত্র ও দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস কে অবহতি করেছি। এবং তার নিকট পত্র দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সম্মেলনের কাউন্সিল ভোটার তালিকা সঠিক নয় বলে একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবী ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক নেতার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে মনগড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

এদিকে সম্মেলনের আর একদিন ও বাকি না থাকলেও অতিথির তালিকা চুড়ান্ত হয়নি বলে জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। তাদের দাবী সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি এ ব্যাপারে সব ধোয়াশার মধ্যে রেখেছে। উক্ত সম্মেলনে কারা হচ্ছে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি সে ব্যাপারে কাউকে অবহিত করা হয়নি। এমন কি কোন নেতা কর্মী কে সম্মেলনের নিমন্ত্রণ পত্র ও দেয়া হয়নি।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সম্মেলনে এস.এম.এ হান্নান রুনু সভাপতি এবং সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচিত সভাপতি ও সম্পাদককে বাদ রেখেই সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

দলের উপজেলা সভাপতি এস. এম. এ হান্নান রুনু বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান। আর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। লোহাগড়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওই দুজন নেতা অনেকটাই জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী। যে কারণে সম্মেলনে শৃঙ্খলা,তোড়জোড়, প্রাণ নেই বলেও দাবি করছেন অনেক নেতা-কর্মী।

এদিকে সম্মেলনে অতিথি কারা থাকছেন তাও প্রকাশ করা হয়নি এখনো। ফলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন এ সম্মেলন ”ভুয়াবাজির সম্মেলন”মোটা টাকার বিনিময়ে ভোট কেনা হচ্ছে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ প্রভাবশালী আরও কয়েকজনই আসন্ন সম্মেলনে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। ওই সব প্রার্থীরা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত।

সূত্র জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর জয়পুরস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের বিশেষ বর্ধিত সভায় মুন্সী আলাউদ্দিনকে আহ্বায়ক ও শেখ সিহানুক রহমানকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করে জেলা আওয়ামী লীগ। সম্মেলন সফল করতে লোহাগড়ার ১২টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়নে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কাউন্সিলর এবং পৌরসভায় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কাউন্সিলর তালিকা জমা পড়েছে। অবশ্য এ নিয়েও বিতর্ক ছিল।

মুন্সী আলাউদ্দিন বলেন, সম্মেলন সফল করতে প্রস্তুতি চলছে। সবাই সম্মেলন সফল করতে কাজ করে যাচ্ছে। ত্যাগীদের বাদ দেয়ার অভিযোগ কে ভ্রান্ত দাবি করে তিনি বলেন, সবাই মিলে সম্মেলন সফল করতে কাজ করে যাচ্ছি।
এ দিকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ভোটে নেতা নির্বাচিত করতে চান। তবে দলের কেউ কেউ বলছেন ভোটে কমিটি হলে পাতানো খেলার সম্মেলন। তাছাড়া সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির দু-একজন নেতা বিশেষ সুবিধা পাবেন বলে তাদের আশঙ্কা।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম.এ হান্নান রুনু বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে বর্তমান সভাপতি-সম্পাদককে ডাকা হয়নি। শুনেছি আমাদের না ডাকতে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক নির্দেশ আছে। তাই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস বলেন, কাউন্সিলর নিয়ে যে বিতর্ক ছিল তা গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সমাধান করা হয়েছে। মোট কাউন্সিলর ৪৮৯ জন।

Archives
Image
মেয়র হানিফ উড়ালসেতুতে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল
Image
লোহাগড়ায় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন নিয়ে আওয়ামী নেতাকর্মীদের ক্ষোভ
Image
বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত
Image
রাজাপুরে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উদযাপিত
Image
বঙ্গবন্ধুর নামে সড়কের নামকরণ করবে ফিলিস্তিন